৬১ রানে পাকিস্তানকে হারিয়ে সুপার এইটে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে ফেলল ভারত। ভারতের ১৭৫ রানের জবাবে ১১৪ রানেই গুটিয়ে গেলেন বাবররা। দুটি করে উইকেট পেয়েছেন হার্দিক, বুমরা, অক্ষর, বরুণ। এই হারের ফলে গ্ৰুপের তৃতীয় স্থানে নেমে গেলেন বাবররা। একমাত্র রান পেয়েছেন উইকেট রক্ষক উসমান খান। ৩৪ বলে ৪৪ করেছেন তিনি। শেষে চেষ্টা করেছিলেন শাহীন আফ্রিদিও। কিন্তু ভারতীয় বোলিংয়ের সামনে একপ্রকার আত্মসমর্পণ করেছে পাক দল।টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পাক ক্যাপ্টেন সলমন আলি আগা।
উসমান তারিক নানা রকমের ডেলিভারি করে আটকে রাখলেন সূর্য-তিলককে। সন্ধেয় এক পশলা বৃষ্টি হয়েছিল কলম্বোতে। মাঠে এসেছিলেন আইসিসির বিশ্বকাপের অ্যাম্বাসাডর রোহিত শর্মা। এসেছিলেন রাজীব শুক্ল, জয় শাহও। তাঁদের সামনেই নিজের কেরিয়ারের একপ্রকার পুনরুত্থান ঘটালেন ঈশান কিষান। এশিয়া কাপের ধারা বজায় রেখে আজকেও হাত মেলালেন না দুই দলের অধিনায়ক।
টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পাক ক্যাপ্টেন সলমন আলি আগা। তাঁরা দলে কোনও বদল না আনলেও ভারতীয় দল দুটি পরিবর্তন করেছিল। হাসপাতাল থেকে কয়েকদিন আগেই ছাড়া পেয়েছিলেন ভারতীয় ওপেনার অভিষেক শর্মা। দলে ফিরলেও রান ফিরল না তাঁর ব্যাটে। প্রথম ওভারে ০ রানে আউট হয়েই ডাগআউটে ফেরেন অভিষেক। শেষ ৬ ম্যাচে ৪ শূন্য রানের ইনিংস খেলে এখন প্রশ্নের মুখে অভিষেক। কয়েকদিন আগেই তাঁর শট নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। অভিষেক ফিরতেই দলকে টেনে তুললেন ঈশান কিষান। কলম্বোয় ঈশান ঝড়ের সামনে তখন রীতিমতো বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল পাক বোলিং ইউনিটকে। প্রেমের তাৎপর্য ও গভীরতা
অধিনায়ক সূর্য আজ করলেন ২৯ বলে ৩২। বিতর্কিত স্পিনার উসমান তারিকের সামনে একদমই সাবলীল ছিলেন না ভারতীয় ব্যাটাররা। সূর্য থেকে শিবম, নড়বড়ে দেখিয়েছে প্রত্যেককেই। রিঙ্কু সিং নট আউট রইলেন ৪ বলে ১১ রানে। শিবম দুবে (২৭) চেষ্টা করলেও ভুল বোঝাবুঝিতে শেষ ওভারে রান আউট হলেন তিনি। প্রথমে ব্যাট করে ভারত তুলেছে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৫ রান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মহাযুদ্ধে এই স্কোরই সর্বোচ্চ।
বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বরাবরই উজ্জ্বল ভারতের ইতিহাস। ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে পাকিস্তান কোনোদিনও হারাতে পারেনি ভারতকে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেই ফলাফলই ৮-১। এই ম্যাচের আগে প্রচুর বিতর্ক হয়েছিল দুই দেশের মধ্যে। প্রথমে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতেই চায়নি পাকিস্তান। তাদের মত ছিল, বিশ্বকাপ খেললেও ভারত ম্যাচ খেলবে না পাক দল। শেষ পর্যন্ত যদিও বা তারা খেলল, কিন্তু সেখানেও হার স্বীকার করতে হল সলমন আলি আগাদের। ব্যাটিং করতে এসে প্রথম ওভার থেকেই উইকেট হারাতে শুরু করে পাকিস্তান। প্রথম ওভারেই আউট হয়ে যান শাহিবজাদা ফারহান। দ্বিতীয় ওভারে বুমরা তুলে নেন সাইম আয়ুব ও সলমন আগার উইকেট। অক্ষর পটেলের বল বুঝতে না পেরে ক্লিন বোল্ড হয়ে ডাগ আউটে ফেরেন বাবর আজম (৫)। অক্ষর পটেলের বলেই স্ট্যাম্পড হয়ে ক্রিজে ফেরেন উসমান (৪৪)। এক সময় ৭৮ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল পাকিস্তান। শাহিন আফ্রিদি না থাকলে হয়ত ১০০ রানের গণ্ডি টপকানোর আগেই শেষ হয়ে যেতে পারত পাক দলের ইনিংস। পরপর দুই বলে ফাহিম আশরাফ ও আবরার আহমেদকে আউট করে হ্যাটট্রিকের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিলেন বরুণ চক্রবর্তী।