প্রেমিককে সঙ্গে নিয়েই
স্বামীর সঙ্গে ঘর
সম্প্রতি ভারতের উত্তর
প্রদেশের সীতাপুর জেলার মহমুদাবাদ এলাকায় স্বামী, স্ত্রী এবং প্রেমিকের একই ছাদের নিচে
বসবাস করার একটি চাঞ্চল্যকর ও অদ্ভুত ঘটনা সংবাদ শিরোনামে এসেছে। এই ঘটনাটি স্থানীয়
এলাকায় এবং সমাজমাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। প্রেমের তাৎপর্য ও গভীরতা
পরকীয়া না ১০০% ভালবাসা!
তবে পরকীয়া তো লুকিয়ে চুরিয়ে!! যাইহোক বিভিন্ন সময়েই বিবাহিত মহিলা ও তাঁর প্রেমিক
মিলে স্বামীকে সরিয়ে দেয়- এইরকমই একাধিক ঘটনা দেখা গেছে সাম্প্রতিক অতীতে—কখনও সুটকেস
বা ড্রামের ভেতর লাশ পাওয়া যায়, আবার কখনও পাহাড়ের খাদে ফেলে দেওয়া হয়েছে স্বামীকে।
তবে উত্তর প্রদেশের সীতাপুরে এমন এক অদ্ভুত প্রেমের কাহিনী সামনে এসেছে, যা পুলিশ থেকে
শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবাইকেই হতবাক করে দিয়েছে। এখানে এক বিবাহিত মহিলা তাঁর স্বামী
ও প্রেমিক—উভয়ের সঙ্গেই একই ছাদের নিচে বসবাস করছেন; আর বিস্ময়কর বিষয় হল, এ নিয়ে
ওই দুই পুরুষের কারও কোনও আপত্তি নেই।
মাহমুদাবাদ কোতোয়ালি এলাকার।
ফুলওয়ারিপুর গ্রামের বাসিন্দা শুভম ভার্মা দশ বছর আগে অঞ্জু ভার্মাকে বিয়ে করেছিলেন
এবং তাঁদের দুটি সন্তান রয়েছে। উমেরা গ্রামের নীতিন শর্মা যখন ‘প্রেমিক’ হিসেবে অঞ্জুর
জীবনে প্রবেশ করার আগে পর্যন্ত
অঞ্জুর জীবনে সবকিছু স্বাভাবিক ভাবে ভালোই চলছিল। জোর করে বিয়ে দেওয়া থেকে পালিয়েছে কিশোরী
উত্তরপ্রদেশের সীতাপুরে
মাহমুদাবাদ কোতোয়ালি এলাকার ফুলওয়ারিপুর গ্রামের বাসিন্দা শুভম ভার্মা দশ বছর আগে অঞ্জু
ভার্মাকে বিয়ে করেছিলেন এবং তাঁদের দুটি সন্তান রয়েছে। উমেরা গ্রামের নীতিন শর্মা যখন
‘প্রেমিক’ হিসেবে অঞ্জুর জীবনে প্রবেশ করার আগে পর্যন্ত অঞ্জুর জীবনে সবকিছু স্বাভাবিক ভাবে ভালোই চলছিল।
স্বামী বললেন, "প্রথমে
আমি নিজের জীবন শেষ করে দিতে চেয়েছিলাম; এখন আমি একসঙ্গে থাকতে রাজি।"
যখন তাঁর স্বামী শুভমের কাছে এই সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলো, তখন তাঁর তীব্র মানসিক
যন্ত্রণা স্পষ্ট হয়ে উঠল। তিনি জানান যে, এই ত্রিকোণ প্রেমের বিষয়টি জানার পর তিনি
আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন। কিন্তু এখন সবকিছু জেনেও তিনি তাঁর স্ত্রী ও স্ত্রীর প্রেমিকের
সাথে থাকতে রাজি। এদিকে প্রেমিক নীতিন মনে করে যে সন্তানরা তাঁদের উভয়েরই, তাই তাঁরা
সবাই মিলেই একসঙ্গে থাকবেন। নিষ্পাপ শিশুদের যখন এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলো, তারাও সরলভাবে
জানাল যে তারা "মা, বাবা ও চাচু" (প্রেমিক)-র সঙ্গেই থাকতে চায়। শুধু রেজিস্ট্রি বিয়ে করলেই হবে না, সাতপাকে ঘুরতে হবে
শ্বশুর যখন তাকে বাড়ি থেকে
বের করে দিয়েছিলেন, তখন পুলিশ তাকে তার জিনিসপত্র ফিরে পেতে সহায়তা করেছিল।
অঞ্জুর শ্বশুর এই ‘আধুনিক সম্পর্ক’টি মোটেও পছন্দ করেননি। কোনও সুরাহা না হওয়ায় পুলিশ—যেহেতু
অঞ্জু, শুভম ও নীতিন সকলেই প্রাপ্তবয়স্ক—বিষয়টি তাদের নিজেদের বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেয়।
পুলিশ শুভমের শ্বশুরবাড়ি থেকে তার সমস্ত জিনিসপত্র উদ্ধার করে তাকে ফেরত দিয়েছে। এখন
স্বামী, স্ত্রী, প্রেমিক ও দুই সন্তানকে নিয়ে গঠিত এই অভিনব পরিবারটি সমাজের কটাক্ষ
থেকে দূরে নিজেদের জন্য এক নতুন জগৎ গড়ে তুলে একই ছাদের নিচে বসবাস করছে।