মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, দেশনায়ক নেতাজিকে অসম্মান কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। কথা মতোই এবার কড়া অ্যাকশন রাজ্য সরকারের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে অনন্ত মহারাজকে দেওয়া সম্মান কেড়ে নিল শুভেন্দু সরকার।
কোচবিহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা অনন্ত মহারাজ। সম্প্রতি এই বর্ষীয়ান নেতা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “শুধু মহাত্মা গান্ধি, জওহরলাল নেহরু বা কংগ্রেসের আন্দোলনের ফলেই ভারত স্বাধীন হয়েছে, এই ধারণা সঠিক নয় । কোচবিহারের মহারাজার ভূমিকা ইতিহাসে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। কোচবিহারের মহারাজা যুদ্ধ করে হিটলার এবং আজাদ হিন্দ ফৌজকে পরাজিত করেছিলেন। জার্মানির হাতে বন্দি হওয়া ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাদের নেতাজির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। সেই সেনাদের নিয়েই আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠিত হয়। নেতাজি সেই সুযোগের অপব্যবহার করেছিলেন। আজ যদি আমি সরকারের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিই, তা হলে আমাকে এনকাউন্টার করা হবে। ব্রিটিশ আমলেও আইন ছিল। কোচবিহারের মহারাজাকে যদি স্বাধীন ভারতের সম্রাট করা হত, তবে দেশভাগ হত না। ভারত ও পাকিস্তান এক থাকত।”
নেতাজিকে নিয়ে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। বিভিন্ন থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে ইতিমধ্যেই। কুণাল ঘোষ তাঁর সাংসদপদ খারিজের আবেদন করেছেন। রাম মন্দিরে কোনও দুর্নীতি হয়নি !
গত ২১ ফেব্রুয়ারি অনন্ত মহারাজকে বঙ্গবিভূষণ সম্মান দিয়েছিল তৎকালীন তৃণমূল সরকার। ৬ মাসের মধ্যেই সেই সম্মান ফিরিয়ে নেওয়া হল।
বুধবারই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু সম্পর্কে যাঁরা কটূক্তি করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে গ্রেফতারও করা হবে। তারপর থেকেই প্রশ্ন উঠছিল যে অনন্ত মহারাজকেও গ্রেফতার করা হবে কি না। নাম না করলেও মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল, “কারও নাম করব না, তবে আইন সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হবে।” আবার টুকরো হবে পাকিস্তান