রবিবার নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা
কনভেনশন সেন্টারে বিজেপি–র প্রশিক্ষণ শিবিরে কোনও রাখঢাক না করেই বঙ্গ–বিজেপি সভাপতি
শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমাদের পার্টির অনেক বিধায়কের বিরুদ্ধে এখনই ভূরি ভূরি তোলাবাজি
আর কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ আসছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভাঙার অভিযোগও উঠেছে অনেক বিধায়কের বিরুদ্ধে।
এ সব কিন্তু বরদাস্ত করা হবে না।’ অতীতেও বিজেপির বিভিন্ন রুদ্ধদ্বার বৈঠকে শমীক, বনসলরা
সতর্ক করেছেন বিধায়কদের একাংশকে। কিন্তু তারপরেও তাঁদের অনেকের টনক নড়েনি বলে মনে
করছেন পদ্ম–নেতৃত্ব। বিজেপি সাংসদ রাজবংশী নেতা অনন্ত মহারাজের ‘বঙ্গবিভূষণ’ কাড়ল রাজ্য সরকার
শমীক ভট্টাচার্য বলেন,
‘আমাদের ২০৮ জন বিধায়ক। ২০–৩০ জন বিধায়ক যদি কমেও যায়, সরকারের কোনও ক্ষতি হবে না।
আমার সঙ্গে অমিত শাহের কথা হয়েছে এ বিষয়ে।’ সরাসরি কারও নাম না–করে বিধায়কদের একাংশের
উদ্দেশে তাঁর সংযোজন, ‘এখনও সময় আছে, শুধরে যান। না হলে অভিযুক্ত বিধায়কদের সাসপেন্ড
করা হবে।’
ওই রুদ্ধদ্বার সভায় শমীক
বিধায়কদের মনে করিয়ে দেন, বিধানসভা ভোটে পদ্মের যে প্রার্থীরা জিতেছেন, তাঁরা কেউই
নিজের শক্তিতে জেতেননি। দল সর্বশক্তি নিয়ে পাশে ছিল বলেই তাঁরা জয়ের মুখ দেখেছেন। শমীক
বলেন, ‘দল কী ভাবে আপনাদের হয়ে লড়াই করেছে, তা আপনারা নিজেরাও অনেকে জানেন না। ভাববেন
না, নিজের জোরে ভোটে জিতেছেন। দল ছিল, তাই জিতেছেন। তাই এমন কিছু করবেন না, যাতে দলের
ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’ শমীকের দাবি, ‘কয়েকজন আবার ভোটে জিততে না–পারলেও তোলাবাজির
দোকান খুলে বসেছেন। পার্টির কাছে সব খবর আছে।’ রাম মন্দিরে কোনও দুর্নীতি হয়নি !
নিউটাউনে বিজেপির প্রশিক্ষণ
শিবিরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দলের নাম ব্যবহার করে অন্যায় কাজ
করলে প্রয়োজনে বিধায়কদের বিরুদ্ধে কঠোর
পদক্ষেপ করা হবে। আরও স্পষ্ট করে শমীক বললেন, বিজেপি দীর্ঘ লড়াই এবং বহু মানুষের ত্যাগের
মধ্য দিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে। সেই ক্ষমতা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করার অনুমতি
কাউকে দেওয়া হবে না। দলের নাম বা বিধায়ক পদকে ব্যবহার করে কেউ যদি সাধারণ মানুষের উপর
প্রভাব খাটান কিংবা অন্যায় সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে দল ব্যবস্থা
নেবে। আবার টুকরো হবে পাকিস্তান
রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর গত কয়েক মাসে দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। তোলাবাজি, অনিয়ম এবং দলীয় নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে বহু নেতা-কর্মীকে শোকজ করার পাশাপাশি কয়েকজনকে সাসপেন্ডও করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। তবে অভিযোগগুলির ক্ষেত্রে কোথায় তদন্ত শেষ হয়েছে এবং কোথায় শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হয়েছে, তা পৃথকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। জঙ্গির নিশানায় মুখ্যমন্ত্রী
তোলাবাজি/কাটমানি নেওয়ার
অভিযোগ বিজেপির কিছু বিধায়কের বিরুদ্ধে।