দামি ওষুধের প্রয়োজন নেই। প্রাকৃতিক ওজ়েম্পিকেই ওজন কমবে। সারবে ফ্যাটি লিভারের সমস্যাও। কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয়ও থাকবে না।
ওজন কমানোর নানা ওষুধ নিয়ে আলোচনা চলছেই। কেউ বলছেন ওজ়েম্পিকের কথা, কেউ আবার এগিয়ে রাখছেন মাউনজ়েরোকে।ওষুধ যা-ই হোক না কেন, তা যে সম্পূর্ণ নিরাপদ এমন কেউই বলতে পারছেন না। বরং ওজন কমানোর ওষুধের অধিক ডোজ়ে হার্টের রোগ হতে পারে, চিন্তাভাবনা গুলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কাও করা হচ্ছে। তাই ওষুধ নয়, বরং পথ্যের দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে। ওজন কমবে, লিভারের রোগ সারবে আবার সুগারও হবে না, এমন পথ্য কিন্তু বাড়িতেই তৈরি করা যায়। নেটমাধ্যমে এক বিশেষ পানীয় নিয়ে আলোচনা চলছে যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রাকৃতিক ওজ়েম্পিক’। এটি খেলে ওজন তো কমবেই, কাজও হবে ওজ়েম্পিক বা মাউনজ়েরোর মতোই।
ওজন কমানোর যে ওষুধগুলি এসেছে তাদের কাজ হল শরীরের ‘জিএলপি-১’ হরমোনকে উদ্দীপিত করে প্রাকৃতিক উপায়ে খিদে নিয়ন্ত্রণে রাখা ও বিপাকহার বৃদ্ধি করা। যাতে বারে বারে খিদে না পায় এবং যতটুকু খাচ্ছেন তা সঠিকভাবে পরিপাক হয়ে অতিরিক্ত ক্যালোরি ঝরে যায়। প্রাকৃতিক ওজ়েম্পিক সে ভাবেই কাজ করছে বলে দাবি। নানা রকম ফল, শাকপাতা ও বীজ দিয়ে তৈরি সে সব পানীয় একদিকে যেমন মেদ ঝরাবে, তেমনই রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখবে, হজমে সহায়ক হবে আবার লিভারের রোগও সারাবে।
সকালে খালি পেটে এক গ্লাস তাজা গ্রিন জুস পান করা শরীরের জন্য সবচেয়ে উপকারী। এটি দ্রুত পুষ্টি শোষণে সাহায্য করে, তবে সর্বোচ্চ সুফল পেতে শাকসবজি ও ফলের অনুপাত ৮০:২০ রাখা উচিত। তৈরির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি পান করা ভালো।
গ্রিন জুস খাওয়ার নিয়মাবলী:সেরা সময়: সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে পান করা সবচেয়ে ভালো, এটি শক্তি বাড়ায়।অনুপাত (80/20 নিয়ম): ৮০% সবজি (যেমন- পালং শাক, শসা, সেলেরি, লাউ) এবং ২০% ফল (যেমন- আপেল, লেবু) ব্যবহার করুন, যাতে সুগার কম থাকে।পান করার পদ্ধতি: ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে পান করুন, যাতে লালার সাথে মিশে হজম সহজ হয়।পরিমাণ: দিনে ১/২ থেকে ১ গ্লাস (প্রায় ২৫০ মিলি) যথেষ্ট।
সতর্কতা:জুস তৈরির সাথে সাথেই পান করে ফেলা ভালো। ফ্রিজে রাখলে পুষ্টিগুণ কমে যায়।যাদের কিডনিতে পাথর বা ক্যালসিয়ামের সমস্যা আছে, তারা পালং শাক বা অক্সালেট সমৃদ্ধ পাতা কাঁচা না খেয়ে হালকা ভাপ দিয়ে জুস করতে পারেন।কফি পান করার অন্তত ১ ঘণ্টা আগে বা পরে গ্রিন জুস খান।গ্রিন জুসের উপকারিতা:এটি দ্রুত হজমযোগ্য পুষ্টি, এনজাইম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে, যা ক্লান্তি কমায় এবং শরীরকে বিষমুক্ত (Detox) করতে সাহায্য করে।
গ্রিন জুস: -
উপকরণ:
১টি গোটা শসা
একমুঠো পালং শাক
১টি আপেল (গ্রিন আপেল হলে ভাল)
অর্ধেকটা মুসাম্বি লেবু
অর্ধেকটা পাতিলেবু
১ ইঞ্চি আদা
১ চামচ চিয়া বীজ
৩ কাপ জল
প্রণালী:
সমস্ত উপকরণ মিক্সারে ভাল করে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। কোনওরকম চিনি বা গুড় অথবা মধু মেশাবেন না। পানীয়টি ছেঁকে নিয়ে উপরে পুদিনা পাতা ছড়িয়ে খেতে পারেন।