রাত পোহালেই রাজ্যে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। আগামীকাল ২৯ এপ্রিল, বুধবার হবে শেষ দফার এই ভোট। ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে। এই পর্বে ভোট রয়েছে - পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া, কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও নদিয়া জেলায়। এই দফায়ও নির্বিঘ্নে ভোট করার চ্যালেঞ্জ কমিশনের।
প্রচারের শেষ লগ্নে সোনারপুরে উত্তেজনা চরমে। দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে নির্দল প্রার্থী রাজন্যা হালদারকে ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনায় সরগরম হয়ে উঠেছে এলাকার রাজনীতি।
স্থানীয় কাউন্সিলর রেশমা মণ্ডলের স্বামী শাহেনশা -সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সোনারপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন রাজন্যা হালদার।
এদিকে বিধানসভা ভোটের দ্বিতীয় দফার আগেই সামনে এল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়-এর ছাত্র নির্বাচনের ফলাফল, যেখানে স্পষ্টভাবে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির আধিপত্য দেখা গেল। কলা থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং—প্রায় সব বিভাগেই বামেদের জয়জয়কার।
এবারের নির্বাচনে SIR একটি বড় ইস্যু। আম আদমি পার্টি (আপ)-তে বড়সড় ভাঙন
ট্রাইব্যুনালের নিষ্পত্তির পর দ্বিতীয় দফার সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন, যেখানে ১৪৬৮ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত এবং ৬ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ায় মোট ৯১ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। এদের মধ্যে অনেকেই মৃত ব্যক্তি বা নকল ছিলেন, তবে নথি জমা দেওয়ার পর প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের নামও বাদ দেওয়া হয়। বিচারাধীন তালিকা থেকে ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ে। সব মিলিয়ে ট্রাইবুনালে জমা পড়ে ৩০ লক্ষের বেশি আবেদন। তার মধ্যে প্রথম দফার আগে ৬৫৭ জনের নাম নিষ্পত্তি হয়। সেখান থেকে ১৩৯ জনের নাম তালিকায় ওঠে। বাদ যায় ৮ জনের নাম। বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোটে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ কোটি ২১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৯৭৬ l শান্তি বৈঠক ভেস্তে যাওয়ায় আমেরিকা দায়ী
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর প্রথম পর্বে ৯২ শতাংশের বেশি রেকর্ড ভোট পড়েছে, যা স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ। এসআইআর বিতর্কের মাঝে ভোটার উপস্থিতি, এবং তৃণমূল ও বিজেপি উভয় দলই এই ভোটকে নিজেদের জয়ের ইঙ্গিত হিসেবে দাবি করছে। ভাতার রাজনীতিই কি ভোটের ভবিষ্যৎ
গতকাল হুগলির গোঘাটে তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগের গাড়িতে হামলার ঘটনায় গ্রেফতার করা হল তিন বিজেপি কর্মীকে। গোঘাটের বর্মায় অশান্তির ঘটনায় অ্যাকশন মোডে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। বর্মা গ্রামে বিজেপির প্রচার মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার ঘটনায় সন্ধ্যা হতেই ধরপাকড় শুরু করল পুলিশ। গ্রামের একাধিক বাড়ি, দোকানে তল্লাশি চালানো হয়। বেশ কয়েকজনকে টানতে টানতে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়। বেশ কয়েকজনকে ধরপাকড় করার পরেই পুরুষশূন্য হয়ে পড়ছে গোটা গ্রাম।
শেষ দফা ভোটের আগে রাজ্যের ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রে অশান্তি পাকাতে পারেন, এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। দ্বিতীয় দফা ভোটের দু’দিন আগে পর্যন্ত ১৫৪৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বেআইনি নির্মাণে বিদ্যুৎ বা জলের সংযোগ দেওয়া যাবে না, কড়া নির্দেশ কোর্টের
দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে সমস্যা সৃষ্টিকারী (ট্রাবল মেকার)-দের নামের তালিকা প্রকাশ নিয়ে আবার কলকাতা হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করল তৃণমূল। রাজ্যের শাসকদলের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, আদালতের নির্দেশের পরেও তালিকা প্রকাশ করে ৩৫০ জনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে বলেছে নির্বাচন কমিশন। এ নিয়ে দ্রুত শুনানির আবেদন করেছেন তাঁরা। খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আমেরিকা - ইরান শান্তি বৈঠক
এদিকে দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে প্রার্থীদের সঙ্গে সঙ্গে চর্চায় এক আইপিএস অফিসার— অজয় পাল শর্মা। উত্তরপ্রদেশের ‘এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট’-কে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক করেছে নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যে ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়িতে গিয়ে তাঁর হুমকি, হুঁশিয়ারির ভিডিয়ো ভাইরাল। তার মাঝেই আইপিএস অফিসারকে খোঁচা দিয়ে সমাজমাধ্যমে ভিডিয়ো পোস্ট করলেন মহুয়া মৈত্র। কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদের খোঁচা, ‘‘আশা করি, আপনার পুলিশি দক্ষতা আপনার নাচের দক্ষতার চেয়ে ভাল...।’’
ওই ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, চটুল হিন্দি গানে নাচছেন স্বল্পবসনা নর্তকীরা। ( ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি প্রাভাতী সংবাদ ডট ইন) নর্তকীদের সঙ্গে দৃশ্যমান যুবকটি যোগী রাজ্যের ‘এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট’ বলে দাবি করেছেন মহুয়া। পুরীর নীচে প্রাচীন শহর, জগন্নাথ মন্দির থেকে সমুদ্র পর্যন্ত সুড়ঙ্গ
এবারের নির্বাচন অনেকটাই আলাদা। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। কে সরকার গড়বে কেউ জোড় দিয়ে বলতে পারছে না। বিজেপি তৃণমূল ‘দু’দলই বলছে তারাই জিতবে!
দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে নিউটাউনে কন্ট্রোলরুম খোলা হল কেন্দ্রীয় বাহিনীর তরফে। এই কন্ট্রোলরুম থেকেই নজরদারি চালানো হবে ১৪২ টি বিধানসভা কেন্দ্রে। দ্বিতীয় দফায় মোট ২ হাজার ৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করছে নির্বাচন কমিশন। সারাক্ষণ দুর্বল লাগে?
মোটের ওপর প্রথম দফা মিটেছে নির্বিঘ্নেই। এবার দ্বিতীয় দফায় দক্ষিণবঙ্গে ভোট শান্তিপূর্ণ করানোর চ্যালেঞ্জ। কেন্দ্রীয় বাহিনীর তরফেও সেরে ফেলা হয়েছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি।
SIR এর পরে এটাই প্রথম ভোট তাই নাগরিকত্ব হারানোর ভয়ে যারা বরাবরই ভোটকেন্দ্রবিমুখ তাঁরাও এবার ভোট দেবেন বলে ঠিক করেছেন। ভিনরাজ্য থেকে মোটা টাকা খরচ করে হলেও দলে দলে ঘরে ফিরছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। ভোট সকলের গণতান্ত্রিক অধিকার। তা প্রয়োগ করাই কাম্য। তথ্য বলছে, ভোটাধিকার প্রয়োগ যে কারও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। ভোট দিচ্ছেন না, স্রেফ এই কারণে কারও নাম বাদ দিতে পারে না নির্বাচন কমিশন। তাহলে নাম বাদ যায় কখন? কোনও ভোটারের মৃত্যু হলে অথবা যদি কোনওভাবে নির্বাচন কমিশন কারও নাম যাচাই করতে না পারে, সেক্ষেত্রে বাদ পড়তে পারে নাম। ফলে এসআইআর হয়েছে, তাই এবার ভোট না দিলে নাম কাটা যাবে বলে যারা আতঙ্কিত, তাঁরা নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন, ভোট না দিলেও বাদ পড়বে না নাম।