মহিলা সাংসদদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ, বিরোধী আট সাংসদকে অন্যায় ভাবে সাসপেন্ড করা, বিরোধীদের অধিবেশনে বলতে না দেওয়ার ক্ষেত্রে স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই অনাস্থা প্রস্তাব আনে কংগ্রেস। যদিও এনডিএ-এর তরফে পাল্টা প্রশ্ন তোলা হয়েছে কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে।
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার আগেই কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস দুইভাগে ভাগ হয়ে গেল। কংগ্রেস যখন তড়িঘড়ি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার পক্ষপাতি তখন কংগ্রেস গোটা বিষয়টি নিয়ে আরও সময় নেওয়ার পক্ষপাতি। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ১১৮ জন সাংসদের সই করা একটি চিঠি লোকসভার স্পিকারের কাছে পাঠান হয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস আরও সময় নিচ্ছে। দলের পক্ষ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় জানিয়েছেন, ২-৩ দিনের মধ্যে স্পিকারের কাছ থেকে কোনও সাড়া না পেলে তারা অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করবে। এপ্রিল থেকে নয়া আয়কর আইন
অভিষেক বলেন, ‘তিন দিনের বদলে যদি আজকে অনাস্থা প্রস্তাব আনে, আমাদের অবস্থান হলো, আমরা চিঠি দেবো স্পিকারকে। আপনি ভুল করলে তো আপনাকে সুযোগ দিতে হবে। না হলে বিজেপি আর আমাদের মধ্যে পার্থক্য কী? উপরাষ্ট্রপতি কথা শুনছেন না বলে এক ঝটকায় সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমরা তো ওদের মতো নই।’
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে মঙ্গলবার অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিশ জমা দিয়েছে কংগ্রেস। কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ বলেন, “আজ দুপুর ১:১৪ মিনিটে, আমরা ৯৪সি নিয়ম ও পদ্ধতি মেনে স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছি।” কংগ্রেস সূত্রে জানা গেছে, লোকসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিশে মোট ১১৮ জন সাংসদ সই করেছেন। সূত্র অনুযায়ী, বিরোধী সাংসদরা স্পিকারের বিরুদ্ধে “নির্লজ্জ পক্ষপাতমূলক” আচরণের অভিযোগ তুলেছেন এবং বিরোধী দলের নেতাদের কথা বলতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিশে স্পিকারের বিরুদ্ধে চারটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে বলতে না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। রাহুল গান্ধী চিনের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের অচলাবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে জেনারেল এমএম নারাভানের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথার উল্লেখ করেছিলেন।