Flash News
    No Flash News Today..!!
Friday, January 9, 2026

বাংলার মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যেও ভোটে জেতার জন্য দান-খয়রাতির রাজনীতি শুরু

banner

journalist Name : Bidisha Karmakar

#Pravati Sangbad Digital Desk:

বাংলার মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যেও ভোটে জেতার জন্য দান-খয়রাতির রাজনীতি শুরু হয়েছে 

ভাতা, দান-খয়রাতির রাজনীতি ভেঙে দিচ্ছে অর্থনীতি, ভোট লোভী নেতাদের এই মতাদর্শই দেশকে ডোবাবে।

ফলে সার্বিক উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে অর্থের অভাবে। এর সুদূর প্রসারী প্রভাব পড়বে ভবিষ্যৎ সুস্থ সমাজ গঠনে। 

বর্তমানে এই খয়রাতি সংক্রান্ত বিষয়টা ভারতের অর্থনীতির জন্যও ক্ষতিকর হয়ে উঠছে বলে ইতিমধ্যেই নিদান দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট ৷

আগে বিরোধী রাজনৈতিক দল বা বিজেপি এর তীব্র বিরোধিতা করে আসছিলো। আর এখন পশ্চিম বাংলার মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যেও ভোটে জেতার জন্য দান-খয়রাতির রাজনীতি শুরু করে দিয়েছে।। এক সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জোর গলায় বলতেন আমরা কখনো দান-খয়রাতির রাজনীতি করবো না। যে নীতি দেশের অর্থনীতির ক্ষতি করবে তা দিয়ে ভোটে জেতার রাজনীতি করবো না । উন্নয়ন দেখে মানুষ ভোট না দিলে আমরা হারতেও রাজি আছি। দেশের ক্ষতি করবো না। আগামী দিনে আমরা আইন পাশ করে এই দান-খয়রাতির রাজনীতি বা ভোট কেনার রাজনীতি বন্ধ করবো। কোথায় গেলো এতসব বড় বড় ভাষণ??                               মাত্র ৬ লক্ষ টাকায় ফ্ল্যাট দিচ্ছে রাজ্য সরকার

নির্বাচনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নানাবিধ প্রতিশ্রুতি দেয়। চলে দান, খয়রাতি। জণগনের অর্থেই এসব হয়। এর বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল।                    বেআইনি নির্মাণে বিদ্যুৎ বা জলের সংযোগ দেওয়া হবে না

বর্তমানে এই দান-খয়রাতি সংক্রান্ত বিষয়টাই (Freebies Culture) ভারতের অর্থনীতির জন্যও ক্ষতিকর হয়ে উঠছে বলে ইতিমধ্যেই নিদান দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) । আসলে ভোট পাওয়ার জন্য ভোটের আগে জনগণকে বিভিন্ন ধরনের পরিষেবা বিনামূল্য পাইয়ে দেওয়ার মতো নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দেন রাজনৈতিক নেতারা। আর সেই প্রস্তাবে প্রভাবিত হয় জনসাধারণও।

অসমে সামনে বিধানসভা নির্বাচনে। এমনিতে অসমে দান খয়রাতির রাজনীতি কমবেশি চলে। উপজাতিদের আলাদা ভাতা ও অন্যান্য সাহায্য, চা শ্রমিকদের সাহায্য এসব সরকার করেও। এবার পুরুষদের জন্যও আলাদা প্রকল্প ঘোষণা করলেন তিনি। বৃহস্পতিবার বছরের প্রথম দিন ‘বাবু আচনি’ প্রকল্প ঘোষণা করেছে অসম সরকার। এই প্রকল্প অনুযায়ী, পয়লা ফেব্রুয়ারি থেকে স্নাতকোত্তর স্তরের ছাত্রদের বৃত্তি হিসাবে দেওয়া হবে প্রতি মাসে দু’হাজার টাকা। স্নাতকস্তরের ছাত্রদের দেওয়া হবে এক হাজার টাকা করে।

অসমে ছাত্রীদের জন্য এই ধরনের প্রকল্প আগে থেকেই চলে। হিমন্ত ঘোষণা করেছিলেন ছাত্রদের জন্যও এই প্রকল্প চালু করা হবে। সেটাই ভোটের আগে চালু করে দিলেন তিনি।                           নিষিদ্ধ বহুবিবাহ! না মানলে ৭ বছরের জেল

শুধু পুরুষদের জন্য নয়, মহিলাদের জন্যও বাড়তি ‘উপহার’ ঘোষণা করেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী। অসমে ‘অরুণোদয়’ নামের একটি প্রকল্পের অধীনে মহিলাদের মাসে হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হয়। ভোটের মুখে হিমন্ত ঘোষণা করেছেন, জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত পাঁচ মাসের ভাতা একত্রে দেওয়া হবে ফেব্রুয়ারিতে। বিহু উপলক্ষে। সেই সঙ্গে অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকা করে ‘বোহাগ বিহু’ অর্থাৎ বিহুর উপহার পাবেন মেয়েরা। রাজ্যের ৩৭ লক্ষেরও বেশি মহিলা এই উপহার পাবেন। অর্থাৎ ভোটের ঠিক আগে আগে এককালীন ৮ হাজার টাকা করে পাবেন মহিলারা।

বিরোধীরা অবশ্য অসমের মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে ভোট কেনার চেষ্টা হিসাবে দেখছে। তাঁদের বক্তব্য, রাজ্যে চাকরি নেই। মহিলাদের নিরাপত্তা বা আয়ের সংস্থান নেই। তাই ভাতা দিয়ে ভোলানোর চেষ্টা করছেন হিমন্ত। যা পশ্চিমবঙ্গে বলেন বিজেপি সহ বিরোধীরা। সব রাজনৈতিক দলই এক।। নিজেদের ক্ষমতায় রাখার জন্য যদি কোন কিছুতে আপস করতে হয় তাতেও রাজি । এখনকার রাজনীতিতে কোন নীতিই নেই। শুধু নিজেদের স্বার্থ ছাড়া আর কারোর কথা ভাবে না। ঘরের পরিবারের কথা ভাবে না, দেশ আর জনগণের কথা তো ছেড়েই দিন।। 

এক সময় বিজেপি নেতা এবং আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায়ের জনমস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন পাঞ্জাব নির্বাচনের আগে, আপের তরফে ১৮ বছর বয়সী প্রত্যেক মহিলাকে প্রতি মাসে হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতির উল্লেখ রয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, 'শিরোমণি আকালি দল ভোটারদের প্রলুব্ধ করার জন্য প্রতিটি মহিলাকে ২ হাজারটাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারপরে, কংগ্রেস প্রত্যেক গৃহবধূকে প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা করে দেওয়ার আঙ্গীকার করেই খান্ত হয়নি, কংগ্রেস বলেছে গৃহবধূদের বছরে আটটি গ্যাস সিলিন্ডার ও কলেজের ছাত্রীদের স্কুটি,দ্দাশ শ্রেণি উত্তীর্ণের পর ২০ হাজার টাকা, দশম শ্রেণি পাসের পাসের পরে ১৫ হাজার টাকা, অষ্টম শ্রেণী পাসের পরে ১০ হাজার ও পঞ্চম উত্তীর্ণ হলেই ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।'                                আমেরিকা, চিনের পরেই শক্তি সূচকে ৩ নম্বরে ভারত

গত বিধানসভা নির্বাচনে বিহারে এনডিএ জোটের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার ভাতা, দান-খয়রাতির রাজনীতি করে আবার ক্ষমতায় এসেছেন।। নীতীশের পথেই অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত, ভোটে জিততে একদা খোঁচা দেওয়া ‘খয়রাতির রাজনীতি’কেই হাতিয়ার করছে বিজেপি।।  সারাক্ষণ দুর্বল লাগে?

এখানেই প্রশ্ন উঠছে বিজেপির দ্বিচারিতা নিয়ে। অবিজেপি তথা বিরোধী দলের সরকার সামাজিক প্রকল্পের আওতায় আর্থিক সহায়তা দিলে, বিজেপি নেতারা আক্রমণ করেন। দান-খয়রাতির রাজনীতি বলে সরব হন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রকল্পকে এক সময়ে আক্রমণ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী, তাঁর দল এবং অন্যান্য রাজনৈতিক বিরোধীরা। মামলা অবধি হয়েছে। কিন্তু ভোট বৈতরণী পেরোতে একের পর এক রাজ্যে বিজেপিকেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখানো পথে হাঁটতে হয়। ওড়িশা, মহারাষ্ট্র সর্বত্র মমতা মডেলে জয় পেয়েছে বিজেপি। আক্রমণ শানানো রেউড়ি বা খয়রাতি সংস্কৃতিকেই আপন করে নিতে হয়েছে বারে বারে। এবার অসমের হিমন্ত সেই পথে এগোলেন।।

Related News