সরকার বিরোধী আন্দোলনে প্রতিবাদকারীদের মৃত্যুর খবরে মার্কিন চাপে সুর নরম ইরানের
ইরানের নেতারা ‘আলোচনার জন্য ফোন করেছে’ এমনটাই জানিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ ট্রাম্প বলেছেন যে ইরানে চলমান সরকার বিরোধী আন্দোলনের সময় প্রতিবাদকারীদের মৃত্যুর খবরের পর ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও প্রতিবাদকারীদের মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে, যার ফলে তেহরান সরকার কঠোর অবস্থান নিলেও কিছু ক্ষেত্রে সুর নরম করতে বাধ্য হচ্ছে, বিশেষত অর্থনৈতিক সংকট ও প্রতিবাদের তীব্রতার মুখে; সরকার বিক্ষোভকারীদের 'দাঙ্গাকারী' হিসেবে আখ্যায়িত করছে এবং মার্কিন হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিচ্ছে, কিন্তু একইসাথে প্রেসিডেন্টও 'জনগণের উদ্বেগ' শোনার কথা বলছেন, যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তার নরম অবস্থানকেই ইঙ্গিত করে।
ট্রাম্প বলেছেন, “তারা আলোচনার জন্য ফোন করেছে। রবিবার ইরানের নেতারা ফোন করেছে। তারা আলোচনা করতে চায়। আমার মনে হয় তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা বারবার আক্রান্ত হয়ে ক্লান্ত হয়ে গেছে। আমরা তাদের সঙ্গে দেখা করতে পারি। মানে, একটি বৈঠক আয়োজন করা হচ্ছে, কিন্তু বৈঠকের আগে যা ঘটছে তার জন্য আমাদের পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। তবে একটি বৈঠক আয়োজন করা হচ্ছে।”
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং ইরান সরকার সহিংসতা বন্ধ না করলে 'উদ্ধারে' আসার হুমকি দিয়েছে, যা তেহরানকে চাপে ফেলেছে।
একই সময়ে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেসিয়ান বলেছেন যে জনগণের উদ্বেগ শোনা উচিত এবং তাদের সমস্যা সমাধান করা উচিত, যা বিদ্যমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের নরম অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।
ইরানে বিক্ষোভ দমন: নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ৫৩৮ পৌঁছেছে, মানবাধিকারকর্মীরা দাবি
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ-প্রতিবাদকালে নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক দমন পীড়নের মধ্যে নিহতের সংখ্যা ভয়াবহভাবে বাড়ছে। বিদেশভিত্তিক মানবাধিকার দল হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (HRANA) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৫৩৮ জন নিহত হয়েছে। এই মৃত্যুর সংখ্যা প্রাথমিক সরকারি হিসাবের চেয়ে বহু বেশি বলে স্বাধীন গোষ্ঠীগুলোর দাবি।
এই সংখ্যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বিপথগামী বিক্ষোভকারীদের এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের। তথ্যমতে প্রায় ১০,৬০০ জনেরও বেশি লোক আটক হয়েছে এবং ইন্টারনেটসহ যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে বন্ধ রয়েছে, ফলে পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র পাওয়া কঠিন হচ্ছে।
প্রতিবাদ মূলত অর্থনৈতিক সংকট ও মৌলবাদী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে শুরু হলেও তা বর্তমানে রাজনৈতিক দাবিতে রূপ নিয়েছে। রাজধানী তেহরান, মাশহাদ, কোরমানসহ বিভিন্ন শহরে সাধারণ জনগণ প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছে।
সরকার নিরাপত্তা বাহিনী এবং বিশেষ করে সর্বস্বিকাশী বসিজ ও রেভল্যুশনারি গার্ড-কে প্রশংসা করে শক্তভাবে আন্দোলন দমন করার ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিক্রিয়ায় বিদেশি সরকারগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। এরপর দুই সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চলছে। আন্দোলন শুরু হয়েছিল মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে, কিন্তু দ্রুতই তা রাজনৈতিক রূপ নেয়। প্রতিবাদকারীরা ইসলামি প্রজাতন্ত্র শেষ করার ডাক দিচ্ছেন।