প্রায় ২০ বছর পর কলকাতায়
‘ফেরা’ তসলিমা নাসরিনের (Taslima Nasrin)। শুক্রবার বেলা ১২টা ৫০ মিনিট নাগাদ কলকাতা
বিমানবন্দরে পৌঁছন তিনি। শঙ্খ, উলুধ্বনিতে স্বাগত জানানো হয় তাঁকে। পরনে সাদা লালপাড়
শাড়ি। কলকাতায় নেমে আবেগতাড়িত হয়ে লেখিকা বলেন, ‘খুবই ভালো লাগছে।’ প্রসঙ্গত, শুক্রবার
সকালে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে তসলিমা লিখেছিলেন, ‘আজি এ প্রভাতে কলিকাতা অভিমুখে যাত্রা
করিলাম।’ জঙ্গির নিশানায় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী
দমদম বিমানবন্দরে পৌঁছন
তসলিমা। বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা পর্বে আবেগে ভাসলেন। তাঁর হাসিমুখ দেখেই স্পষ্ট প্রায়
দু’দশক পর কলকাতায় ফিরে কতটা খুশি বিশিষ্ট সাহিত্যিক। শনিবার রবীন্দ্রসদনে মৌলবাদ বিরোধী
কবি-সাহিত্যিকদের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা তাঁর। আয়োজক সেক্যুলার মিশন, এইচআরবিএফএফ।
সেই মঞ্চে থাকতে পারেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। ‘বাক স্বাধীনতার জয়’ - তসলিমা
সেক্যুলার মিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের
জন্য নামের দু’টি সংগঠনের আমন্ত্রণে কলকাতায় এসেছেন লেখিকা। ওই দুই সংগঠনের নেতৃত্ব
ওসমান মল্লিক এবং মোহিত রায় ছাড়াও এন সি পি দলের পক্ষে শিউলি সাহা এবং তসলিমার অনুরাগীদের
একাংশ তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। লেখিকার জন্য বিমানবন্দরে কড়া
নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল। শনিবার
রবীন্দ্র সদনে তসলিমাকে সংবর্ধনা জানানোর অনুষ্ঠান রয়েছে। আগামী রবিবার বাংলা অকাদেমিতে
একটি অনুষ্ঠানে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা।
গত ২০০৭ সালে তসলিমার
‘দ্বিখণ্ডিত’ উপন্যাসের প্রকাশ ঘিরে উত্তাল হয়ে ওঠে কলকাতা। কট্টরপন্থার বিরুদ্ধে তাঁর
আগুনঝরা কলমের ‘খোঁচা’য় সংখ্যালঘু এলাকাগুলিতে অশান্তি ছড়ায়। এতটাই অগ্নিগর্ভ হয়ে
ওঠে পরিস্থিতি যে তা সামলাতে সেনা নামাতে হয়েছিল। সে সময় রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান
ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তিনি তাঁর নিজস্ব বৃত্তের অর্থাৎ বামমনস্ক সাহিত্যিকদের
সঙ্গে আলোচনাসাপেক্ষে তসলিমার বইটিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কলকাতা ছাড়তে বলা হয় তাঁকে।
যে বামপন্থীরা ধর্মনিরপেক্ষ বলে গর্ববোধ করে, সেই সরকারের আমলে এমন এক নিদর্শন নিঃসন্দেহে
বাংলার সাহিত্য জগতে অন্ধকারময় অধ্যায়। মাঝে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৫ বছর মসনদে থাকলেও
তসলিমাকে ফেরানো নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করেননি।