মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ছয়
সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধের আপাতত অবসান হয়েছে! দুই সপ্তাহ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে ইরান
ও যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনায় বসবে দুই দেশ। তবে যুদ্ধবিরতির
পরও লেবাননে আক্রমণ চালিয়েছে ইসরায়েল। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা
দেখা দিয়েছে। এবার ইরানের ভয়ানক প্রত্যাঘাত !
পশ্চিম এশিয়ার কূটনৈতিক
পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত অনিশ্চিত এবং বিভ্রান্তিকর। একদিকে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলেও,
অন্যদিকে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে মতপার্থক্য পরিস্থিতিকে আরও
জটিল করে তুলছে। ইসলামাবাদে শান্তি বৈঠক না হলে কী পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে পশ্চিম এশিয়ার
সেই আশঙ্কায় প্রমাদ গুনছে বিশ্ব। একপ্রকার খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আমেরিকা ও ইরানের
বৈঠক।
তেহরান শান্তি বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে
স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমেরিকার সঙ্গে কোনও সরাসরি বা পরোক্ষ
আলোচনা তারা করবে না। তাদের বক্তব্য, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে
আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হচ্ছে । ইরানের মতে, যতক্ষণ না লেবাননে আক্রমণ চালানো বন্ধ
করবে ইজ়রায়েল, ততক্ষণ কোনও ধরনের আলোচনায় বসার প্রশ্নই ওঠে না।
কথা ছিল, চলতি সপ্তাহান্তেই
ইসলামাবাদে বিশেষ বৈঠকে মুখোমুখি হবে দু’পক্ষ। কিন্তু শেষ মুহূর্তের খবর, ইরানের প্রতিনিধি
দল এখনও তেহরান থেকেই রওনা দেয়নি।
এদিকে আয়োজক হিসেবে পাকিস্তান
সব প্রস্তুতি সেরে রেখেছিল। ইসলামাবাদের যে হোটেলে বৈঠক হওয়ার কথা, তার আশপাশে নিরাপত্তা
কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু মূল দুই পক্ষই এখন একে অপরের দিকে আড়চোখে তাকাচ্ছে। ইরানের হুঁশিয়ারির পর হামলা স্থগিত, ‘পিছু হটলেন’ ট্রাম্প?
ওয়াশিংটনের হয়ে এই বৈঠকে
নেতৃত্ব দেওয়ার কথা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের। দলে রয়েছেন জ্যারেড কুশনারও।
কিন্তু সৌদির তেল পাইপলাইনে হামলা এবং কুয়েতে ড্রোন হানা- এই সব কিছুই এখন আলোচনার
পরিবেশ নষ্ট করে দিয়েছে।
শনিবারই এই বৈঠকের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু আবারও হামলা ও হরমুজ নিয়ে দড়ি টানাটানির মধ্যে শেষ পর্যন্ত কাল শান্তি বৈঠক শুরু হবে কি না, তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় কূটনৈতিক মহল।