বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে সরানোর গভীর ষড়যন্ত্র করেছিলেন ইউনুস, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের শাসনকাল নিয়ে এ বার প্রকাশ্যে মুখ খুললেন সে দেশের রাষ্ট্রপতি মুহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দাবি, তাঁকে একপ্রকার অন্ধকারে রাখার চেষ্টা করে গিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের তৎকালীন প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরিয়ে ফেলারও চেষ্টা
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন দীর্ঘ দেড় বছর পর যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। বাংলাদেশের প্রথমসারির সংবাদপত্র দৈনিক ‘কালের কণ্ঠ’-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি ড. মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। জামাতের প্রশ্রয়ে কীভাবে অনির্বাচিত ইউনুস সরকার বাংলাদেশের সংবিধানকে প্রতিপদে উপেক্ষা করেছে এবং স্বয়ং প্রধান উপদেষ্টা কীভাবে একের পর এক অসাংবিধানিক কাজ করে গিয়েছেন তা নিয়ে ক্ষোভ, আক্ষেপ ঝরে পড়েছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার পরে ইউনূস তাঁর সঙ্গে আর সে ভাবে যোগাযোগ রাখেননি বলেও সাক্ষাৎকারে জানান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, “তিনি (ইউনূস) একটিবারের জন্যও আমার কাছে আসেননি। আমাকে সম্পূর্ণ ভাবে আড়ালে রাখার চেষ্টা করে গিয়েছেন।”
সাহাবুদ্দিনের কথায়, ওই দেড় বছর তিনি কোনও আলোচনায় ছিলেন না। অথচ তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন ‘চক্রান্ত’ চলছে। তিনি বলেন, “দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা চিরতরে ধ্বংস করার এবং সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি করার অনেক পাঁয়তারা হয়েছে।” কিন্তু তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অবিচল থাকায় কোনও ষড়যন্ত্রই সফল হয়নি বলে জানান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। সাহাবুদ্দিন আরও বলেন, “অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতিকে উপড়ে ফেলার অসংখ্য ছক ব্যর্থ হয়েছে। ফলে দেড় বছর বঙ্গভবনের অভিজ্ঞতা যে ভাল, তা বলা যাবে না।” বিশ্বকাপে বিদায় ঘণ্টা কি বেজে গেল ইন্ডিয়ার !
তিনি জানান, সেই সময় জামাত-সহ ইউনুসপন্থী শক্তিগুলি তাঁকে সরিয়ে দিতে চাইলেও তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষ নেতৃত্বের অভাবনীয় সমর্থন পেয়েছিলেন। বিএনপির এক উচ্চপদস্থ নেতা তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে তাঁরা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় বদ্ধপরিকর এবং কোনও অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতিকে সরানোর পক্ষে নন। রাষ্ট্রপতি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানেরও ভূয়সী প্রশংসা করে তাঁকে একজন ‘অত্যন্ত আন্তরিক’ ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করেন। উল্লেখ্য, ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সাহাবুদ্দিনের রাষ্ট্রপতির মেয়াদ রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমর্থন থাকলে তিনি পদে বহাল থাকছেন। ড. ইউনুসের কাজের ধরন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা সংবিধানের কোনও তোয়াক্কাই করেননি। ড. ইউনুস প্রায় ১৪-১৫ বার বিদেশ সফরে গেলেও কোনওবারই রাষ্ট্রপতিকে ব্রিফ করেননি, যা একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। এমনকি কসোভো এবং কাতার সফর-সহ তাঁর নিজের বিদেশ যাত্রাতেও বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল।
এমনকি আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়েও ইউনূসের তৎকালীন প্রশাসন তাঁকে কিছুই জানায়নি বলে দাবি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “কোনও কিছুই আমি জানি না। এই রকম একটা চুক্তি অবশ্যই আমাকে জানানো দরকার ছিল। এটা ছোটখাটো হোক আর বড় কিছু হোক, অবশ্যই আগের সরকারপ্রধানেরা রাষ্ট্রপতিকে জানিয়েছেন। আর এটি হল সাংবিধানিক একটা বাধ্যবাধকতা। কিন্তু তিনি তো তা করেননি।” লিখিত বা মৌখিক— কোনও ভাবেই ইউনূস তাঁকে জানাননি বলে দাবি সে দেশের রাষ্ট্রপতির।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দাবি, প্রাথমিক ভাবে গণঅভ্যুত্থানের কয়েক জন নেতার চাপে তাঁকে অপসারণের চেষ্টা হয়েছিল। ওই সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, রাজনৈতিক দলগুলি চাইলে তবেই তাঁকে অপসারণ করা যাবে। তবে বিএনপি-র এক শীর্ষনেতা ওই সময়ে তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন। যদিও কোনও নেতার নাম ওই সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেননি রাষ্ট্রপতি। তিনি জানান, ওই বিএনপি নেতা তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, “আপনার প্রতি আমাদের সমর্থন আছে। আমরা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখতে চাই। কোনও অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের পক্ষে আমরা নই।” ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে যাত্রা শুরু নতুন সরকারের
সাহাবুদ্দিন জানান, রাজনৈতিক স্তরে ওই উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পরে অন্তর্বর্তী সরকারই এ বিষয়ে পদক্ষেপ করে। এক অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে অসাংবিধানিক উপায়ে তাঁর জায়গায় বসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে এমনটাই অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, অন্তর্বর্তী সরকারের এক উপদেষ্টা ওই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির সঙ্গে দেখা করেছিলেন। কিন্তু ওই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এমন ‘অসাংবিধানিক কাজে’ রাজি হননি। ফলে সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয় বলে দাবি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির। বাংলাদেশে বিচারের নামে প্রহসন - তসলিমা নাসরিন
তবে প্রতিকূল সময়ে কেবল বিএনপি নয়, সশস্ত্র বাহিনীর তিন প্রধানও তাঁর পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছিলেন। সেনাপ্রধানরা তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে তাঁর পরাজয় মানে সমগ্র বাহিনীর পরাজয়, যা তাঁরা যেকোনও মূল্যে প্রতিহত করবেন। এই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে এটা স্পষ্ট যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সম্পর্কের ফাটল কতটা গভীর ছিল এবং বাংলাদেশে ইউনুস জমানায় কী পরিমাণ অরাজক পরিস্থিতি চলেছে। বিমান ছিনতাই করেছিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীলার স্বামী
অন্তর্বর্তী সরকারের পাশাপাশি ইউনূসের বিরুদ্ধেও প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন সাহাবুদ্দিন। সাক্ষাৎকারে তাঁর দাবি, ওই পরিস্থিতিতে ইউনূসের কাছ থেকে কোনও ফোন পাননি তিনি। ইউনূস তাঁর পক্ষে বা বিপক্ষে কোনও অবস্থানেই ছিলেন না ওই সময়ে। অবশ্য রাষ্ট্রপতি এ-ও স্পষ্ট করে দেন, তিনিও নিজে থেকে ইউনূসের কাছে কোনও সাহায্য চাননি।