দীর্ঘ ২০ বছর
পর আবারও কলকাতায় ফিরতে চলেছেন তসলিমা নাসরিন। তাঁর ফেরার আনন্দে শহরে ছেয়ে গিয়েছে
তাঁর আগমন বার্তা। একাধিক পোস্টার পড়েছে কলকাতার আনাচে কানাচে।
সোমবার
রাতে সমাজমাধ্যমে কিছু ছবি শেয়ার
করেছেন তসলিমা। সেখানে দেখা যাচ্ছে, গড়িয়াহাট,
সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউতে টাঙানো হয়েছে লেখিকার সুবিশাল হোর্ডিং, যা দেখে আপ্লুত
তসলিমা। তিনি লিখেছেন, 'রাতের
কলকাতা! আজ থেকে ১২
বছর আগে মেগাসিরিয়াল দুঃসহবাসের
গল্প লিখেছিলাম বলে দুঃসহবাসের সব
হোর্ডিং খুলে দেওয়া হয়েছিল।
আকাশ ৮ থেকে দুঃসহবাসের
সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া
হয়েছিল। আজকের এই নতুন হোর্ডিং
খুলে নেওয়া হচ্ছে না। বাক স্বাধীনতার
জয় এখানেই।' ছাত্র আন্দোলনকে সমর্থন বিশিষ্ট ব্যক্তি,রাজনৈ
বাম
আমল বা তৃণমূল সরকারের
সময় প্রাণের শহরে ফিরতে পারেননি
তিনি। কিন্তু রাজ্য সরকার বদলাতেই তিনি আবারও শহরের
বুকে পা রাখতে চলেছেন।
তবে পাকাপাকি ভাবে আসছেন না,
একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতেই তাঁর
শহরে আসা।
এখন আমার
যাওয়া সম্ভব হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার আমাকে নিরাপত্তা দিচ্ছে বলে। নিরাপত্তা না
পেলে আমার পক্ষে কলকাতায়
যাওয়া সম্ভব হতো না। এ
জন্য আমি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের
প্রতি কৃতজ্ঞ। কেন আমার নিরাপত্তার
প্রয়োজন হয়? কেন আমি
আর দশজন মানুষের মতো
যে কোনও শহরে, যে
কোনও রাজ্যে অবাধে ঘুরে বেড়াতে পারি
না? কারণ ইসলামি জঙ্গি
ও জিহাদিরা আমাকে হত্যা করতে চায়। ইসলাম
সম্পর্কে সত্য কথা বলেছি বলে
তারা আমার মুণ্ডু কেটে
নিতে চায়। ইসলাম নিয়ে
সত্য বলা আজও জীবনের
ঝুঁকি।' তাঁর আরও দাবি,
'মুসলিম সমাজ যেদিন মুক্তচিন্তা,
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ধর্মের সমালোচনাকে
সভ্য সমাজের স্বাভাবিক অধিকার হিসেবে মেনে নেবে, সেদিন
ইসলামের সংস্কারক, মুক্তচিন্তক ও নাস্তিকদের নিরাপত্তা
নিয়ে আর কাউকে দুশ্চিন্তা
করতে হবে না।' শুধু রেজিস্ট্রি বিয়ে করলেই হবে না, সাতপাকে ঘুরতে হবে
প্রসঙ্গত,
তসলিমা নাসরিনকে কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে আমন্ত্রণ জানানো
হয়নি। বরং তাঁকে আমন্ত্রণ
জানিয়েছেন ওসমান গণি মল্লিকের সংগঠন
সেকুলার মিশন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেবল তাঁর নিরাপত্তার
ব্যবস্থা করেছে।